Wednesday, September 02, 2015

আপনি কি ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করেন? জেনে নিন ভিজিটিং কার্ড ব্যবহারের সাধারন ভদ্রতা।


চাকুরি, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম ভদ্রতা ভিজিটিং কার্ড রাখা  আমরা অনেক্ ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে থাকি। ভিজিটিং কার্ড বানানো এবং ব্যবহারের রয়েছে কিছু গুরত্বপূর্ণ নিয়ম। এসব বিষয়ে একটু নজর দিলে আপনি আপনার চাকুরি, ব্যবসা বা কর্পোরেট জীবনে হয়ে উঠতে পারেন আরো স্মার্ট।

ভিজিটিং কার্ড কলিং কার্ড বা বিজনেস কার্ড নামেও পরিচিত।ভিজিটিং কার্ডের প্রথম প্রচলন শুরু হয় চীনে পনের শতকের দিকে। ইউরোপে ভিজিটিং কার্ডের ব্যবহার শুরু হয় ১৭ শতকে। ইউরোপের অভিজাত ও রাজকীয় বংশের ব্যক্তিবর্গ ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করতো। তাঁরা যখন কারো কাছে যেতেন তখন তাদের চাকর তাঁদের কার্ড নিয়ে যার কাছে গেছেন তাঁর চাকরের কাছে দিতো যাতে সে কার্ড মালিকের প্রবেশের সময় সঠিক নাম ও পদবি ঘোষণা করতে পারে।
 
 ‍A VISITING CARD TEMPLET
এভাবে ভিজিটিং কার্ড হয়ে উঠেছিলো ইউরোপীয় অভিজাত সমাজের সৌজন্যতার্ এক গুরুত্বপূর্ণ  অঙ্গ। এমন প্রথা তৈরি হয়েছিলো যে একজন ব্যক্তি তার বাসায় অন্য একজন ব্যক্তিকে আশা করতোনা যতক্ষন না সে তার আসার আগে ভিজিটিং কার্ড পাঠাতো। শুধু কার্ড পাঠালেই চলতো না বরং ঐ ব্যক্তি তার বাসায় অপরপক্ষের কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত তার বাসায় যেতে পারতো না। 

যাহোক ভিজিটিং কার্ড আজ আর শুধু উচ্চ বা উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বৈশিষ্ট নয় বা ভিজিটিং কার্ড আজ কারো প্রবেশের আগে উচ্চস্বরে তার নাম ঘোষনা করতেও ব্যবহার করা হয়না। বরং ভিজিটিং কার্ড আজ চাকুরীজীবী ব্যবসায়ীদের অন্যতম নিত্য ব্যবহার্য একটি বস্তু যাতে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার সহ গুরুত্বপূর্ণ্ কিছু তথ্য লিখিত থাকে। 
 
A SAMPLE VISITING CARD
একটি ভিজিটিং কার্ড একজন কার্ড গ্রহিতার কাছে কার্ডের মাধ্যমে একটি ভাবমূর্তি তৈরি করে। তাই কার্ড হওয়া উচিত অত্যন্ত রুচিশীল। অনেক সময় কোম্পানী নিজেস্ব ধাঁচে নিজেস্ব স্টার্ডাড ফরম্যাট অনুযায়ী কোম্পানীর স্টাফদের জন্য তৈরি করে দেয়। সেক্ষেত্রে কার্ডের ডিজা্ইন বা কার্ডে কি ধরনের তথ্য বা মনোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত সে বিষয়ে না ভাবলেও চলে। কিন্তু যখন ব্যাক্তিগতভাবে কার্ড বানতে হয় তখন এসব বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়।

একটি আদর্শ ভিজিটিং কার্ডে নূন্যতম যে বিষয়গুলো থাকা জরুরীঃ
  1. পূর্ণ নাম ও পদবী (পদবীটি নামের ফন্ট থেকে তুলনামূলক ছোট ফন্টের হবে)
  2. প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো।
  3. প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
  4. টেলিফোন ও ফ্যাক্স নাম্বার
  5. মোবাইল নাম্বার (সেই নাম্বার যা আপনি সবসময় ব্যবহার করেন এবং চাকুরী বা ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতে চান)
  6. ই-মেইল ঠিকানা ও ওয়েবসা্ইটি ঠিকানা (যদি থাকে)
 
A VISITING CARD TEMPLET
ভিজিটিং কার্ড ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ন ভদ্রতাসমূহঃ
  1. ভিজিটিং কার্ডটি সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখুন। খেয়াল রাখুন এর কোনাগুলোয় যেন ভাঁজ না থাকে। একটি ভিজিটিং কার্ড  আপনারই প্রতিচ্ছবি। তাই লক্ষ্য রাখুন কার্ডটি যেন কোন ভাবেই ময়লা, ভাঁজ পড়া বা আপনার খাবারের ছিটা পড়া না হয়।
  2. কার্ডের প্রতিটি তথ্য হতে হবে আপ টু ডেট। তথ্য ঠিক করতে ওভার রাইট বা কাটাকাটি করা খুবই অভদ্রতা।
  3. কার্ড হওয়া উচিত আকর্ষনিয়, পরিচ্ছন্ন। কার্ডের সাদা জায়গার কার্যকর ব্যবহার করা উচিত। খুব কম তথ্য এবং খুব বেশি তথ্য দুইই কার্ডকে সৌন্দর্যহীন করে। কার্ডে আপনার চাকুরী বা ব্যবসা এবং ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি থাকা উচিত।
  4. খেয়াল রাখুন আপনার সাথে রাখা কার্ডগুলো যেন শেষ হয়ে না যায়। শেষ হবার আগেই আপনার কার্ডকেস ভর্তি করে নিন। যেন আপনাকে কখনোই বলতে না হয়- সরি, আমার কার্ড শেষ হয়ে গেছে বা আমি কার্ড সাথে আনিনি।
  5. নামের ফন্টগুলো বড় রাখুন। অন্য ফন্ট গুলো যেন এমন না হয় যে কারে পড়তে কষ্ট হয়
  6. কেউ যদি তার কার্ড অফার করে তবে প্রতিত্তোরে অবশ্যই তাকে আপনার কার্ডটি দিন। সেটা তার প্রয়োজন হোক বা না হোক।
  7. কেউ কার্ড দিলে তার দিকে না তাকিয়েই পকেটে রেখে দিবেন না। কার্ডটি মনযোগ দিয়ে দেখুন। পারলে কার্ড সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করুন বা মতামত দিন। কারো কার্ড পাবার পর তা তার সামনে পেছনের পকেটে রাখবেন না। প্রয়োজনে কার্ডটি ধরে রাখুন বা ।অাপনার সার্ট বা কোর্টের পকেটে কার্ডটি সাময়িকভাবে রাখুন।
  8. কেউ ভিজিটিং কার্ড দিলে কার্ডের পেছনে সাক্ষাতের তারিখ এবং অনুসাঙ্গিক তথ্য লিখে রাখা ভালো তাতে অনেক সময় উপকারে আসে। তবে, তা কখন্ই কার্ড প্রদানকারীর সামনে করা যাবেনা।